বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তাড়াশে নববুধসহ দু নারীর মৃত্যু অযত্ন-অবহেলায় ঝোপজঙ্গলে ঢেকেছে বেলকুচি টেলিফোন অফিস, পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবনের অভিযোগ তাড়াশে এক ব্যক্তির বাধায় এডিপির অর্থায়নে গ্রামবাসীর একমাত্র চলাচলের রাস্তার কাজ বন্ধ চলাচলের রাস্তায় ঈদগাহ মাঠের প্রাচীর তাড়াশে অবরুদ্ধ ৪০টি পরিবার তাড়াশে গ্রাম্য বিরোধে একমাত্র রাস্তায় বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ দুটি পরিবার এনায়েতপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা হাসমত উল্লাহর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন এনায়েতপুরে নারী হেল্প ডেক্স সেবা সম্পর্কে অবগত করন ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত ‎ সলঙ্গায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরায় অপহরণের চেষ্টা, ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা বেলকুচিতে প্রভাব দেখিয়ে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, আতঙ্কে বৃদ্ধ পরিবার  দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান, পাকা সড়কে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসীর

বোয়ালমারীতে অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা: নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ব্যর্থতা

আব্দুল মতিন মুন্সী বোয়ালমারী, ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় অনলাইন জুয়া এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মোবাইল ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই জুয়া কার্যক্রম সহজে পরিচালিত হচ্ছে, যা স্থানীয় জনজীবনে বিপর্যয় ডেকে আনছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী পৌর শহর থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলো পর্যন্ত অনলাইন জুয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহজে টাকা আয় করার লোভে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছেন। প্রথমদিকে লাভবান হয়ে পরবর্তীতে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘ওয়ান এক্সবেট’ ও ‘স্টার সেভেন্টি ফাইভ’ নামে দুটি অনলাইন জুয়ার সাইট তাড়াশে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এই সাইটগুলোতে নিয়মিত জুয়া খেলছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্খানীয় ব্যক্তি জানান, বোয়ালমারীর একটি ক্যাসিনো সম্রাট এই অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি নতুন নতুন সাইট তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করছেন।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, “অপরাধী যতই চালাক আর নতুন কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, অনলাইনে জুয়া বন্ধে তাড়াশ থানা-পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

অন্যদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের অভিযোগ, অপরাধী চক্রের তৎপরতা বন্ধে প্রশাসনের পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনলাইন জুয়ার এই প্রবণতা বন্ধ করতে হলে প্রশাসনের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি, জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় নেতৃত্বের উদ্যোগও জরুরি।

এই সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একই সাথে, পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করে তরুণদের এই বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

অনলাইন জুয়া উপজেলায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



লাইক করুন