বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

বেলকুচিতে অসুস্থ ব্যক্তির মৃত্যু নিয়ে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ

আব্দুর রাজ্জাক বাবু, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় এক অসুস্থ ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যা মামলায় নিরীহ ব্যক্তিদের ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলার ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের তামাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছেন মামলার আসামিপক্ষ ও স্থানীয়রা।

মামলা সূত্র ও এলাকাবাসী জানান, গত ১ ডিসেম্বর দুপুরে তামাই পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত বুলু মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ মোল্লার সঙ্গে প্রতিবেশী রাজ্জাক মোল্লার ছেলে রেজাউল মোল্লার তাঁত কারখানার কাজ ও মজুরি সংক্রান্ত বিষয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে মিলন মোল্লা ঘটনাস্থলে এসে রেজাউল মোল্লাকে মারধর করলে তার নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করে দেন।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার ছয় দিন পর দীর্ঘদিন ধরে অ্যাজমা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগে আক্রান্ত মোহাম্মদ মোল্লার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে প্রথমে সিরাজগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ৫ ডিসেম্বর ভর্তি হওয়ার পর ৬ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে তিনি মারা যান।

অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর মরদেহ বাড়িতে এনে দাফনের প্রস্তুতি চলাকালে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির প্ররোচনায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে প্রচার করা হয়। পরে মৃতের ছেলে মিলন মোল্লাকে বাদী করে ১৫ জনকে আসামি করে বেলকুচি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ পরবর্তীতে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।

আসামিপক্ষের অভিযোগ, মামলাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। সমঝোতা না হওয়ায় বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এমনকি পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যদেরও মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

মামলার ১ নম্বর আসামি জহুরুল মোল্লা বলেন, “আমি একজন ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ী। ঘটনার দিন আমার ভাই রেজাউল মোল্লার সঙ্গে মোহাম্মদ মোল্লার কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে মিলন মোল্লা আমার ভাইকে মারধর করলে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। মোহাম্মদ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান। এখন আমাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে স্বাভাবিক মৃত্যুকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”

তবে মামলার বাদী মিলন মোল্লা বলেন, “মামলার বিষয়গুলো আমার স্বজন ও পরিচিতজনরা দেখাশোনা করছেন। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।”

এ বিষয়ে বেলকুচি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমাম জাফর বলেন, “মোহাম্মদ মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি দেখছেন এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবেন।”



লাইক করুন