বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় দুলালনগর-নতিপোতার ভরসা বাঁশের সাকোঁ,চলাচলে থাকছেই ঝুঁকি  হাবিব মোল্লার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন নোয়াপাড়া দুলাল বৈদ্যর বাড়িতে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান দিবস উদযাপন চাঁদপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে তাস ও নগদ টাকাসহ ৫ জুয়াড়ি গ্রেফতার বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও জমি দখলের অভিযোগ  চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা ও দর্শনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদক মামলায় দু’জনের কারাদণ্ড প্রদান  এনায়েতপুরে হত্যা মামলার আসামী  ‎আওয়ামী লীগ নেতা মহির উদ্দিন মেম্বার গ্রেপ্তার চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার আলমডাঙ্গা কলেজপাড়া বায়তুল আমান জামে মসজিদে মেয়রপ্রার্থী হাসিবুল হক লিপুর আর্থিক অনুদান আলমডাঙ্গায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করলেন অ্যাডভোকেট রাসেল এমপি

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় দুলালনগর-নতিপোতার ভরসা বাঁশের সাকোঁ,চলাচলে থাকছেই ঝুঁকি 

মাহমুদ হাসান রনি,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদা ও নতিপোতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুলালনগর-নতিপোতা গ্রামের ভৈরব নদীর ওপর নির্মিত জরাজীর্ণ বাঁশের সেতুটির ওপর নির্ভর করেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ৪-৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলালনগর, নতিপোতা, কালিয়াবকরি, প্রতাপপুর, গোপালপুর ও ভগীরথপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য ভৈরব নদী পারাপারের অন্যতম মাধ্যম এই বাঁশের সেতু। পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর বাজার, ব্যাংক, মহাজনপুর কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের জন্য এ সেতু ব্যবহার করতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দিয়ে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করা গেলেও পণ্যবাহী বা অন্য কোনো যানবাহন পার করা সম্ভব হয় না। ফলে কৃষিপণ্য বা অসুস্থ রোগী নিয়ে তাদের হেমায়েতপুর-চারুলিয়া হয়ে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। দুলালনগর গ্রামের রমজান আলী ওরফে টিটন (৪৫) বলেন, ‘বহু বছর ধরে আমরা এই বাঁশের সেতুর ওপর নির্ভর করে চলছি। একটি স্থায়ী সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। চুয়াডাঙ্গা, দামুড়হুদা কিংবা মেহেরপুরে যেতে হলে এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’ একই গ্রামের পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফারুকুজ্জামান বকুল (৫৫) বলেন, ‘মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যেতে অতিরিক্ত পথ ঘুরতে গিয়ে কৃষকদের ভোগান্তি ও খরচ দুটোই বাড়ছে। আমরা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’ স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তারা এসে স্থান পরিদর্শন ও পরিমাপ করে গেলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে। এদিকে, নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সেতুটি নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ইজারাদার নাজমুল হোসেন বলেন, ‘ সেতুটি তৈরিতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে এবং প্রতি বছর সংস্কারে আরও ৫০-৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অথচ হাজার হাজার মানুষ পারাপার হলেও ঠিকমতো টোল না দেয়ায় সেই খরচ ওঠে না। খরচের তুলনায় আয় না থাকায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এবারও সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, যেকোনো সময় স্রোতের তোড়ে ভেসে যেতে পারে।’ এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, ‘সেতুটির বর্তমান অবস্থা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।



লাইক করুন