বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে তিন দেশে একযোগে আলমডাঙ্গা বেলগাছিতে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার  চুয়াডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযান: ১২০ গ্রাম গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, ২ জনের কারাদণ্ড জামায়াতের ছায়া বাজেট প্রস্তাব ৮ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা তাড়াশে আগুনে পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ১ কোটি টাকা  সিরাজগঞ্জে যানজট নিরসন সিএনজি মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভ অবসরের সিদ্ধান্ত বদলালেন পলাতক শেখ হাসিনা চাঁদপুরে যানজট নিরসনে প্রশংসার জোয়ারে টিআই (এডমিন) প্রবীর কুমার দাস, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ফিরছে সড়কে শৃঙ্খলা বাজেটে কমতে পারে নিত্যপণ্য ও ওষুধের দাম ৪নং বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসাবে এগিয়ে এ্যাডভোকেট নুরে আলম সিদ্দিকী এপিপি

বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে তিন দেশে একযোগে

স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবল ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) থেকে শুরু হচ্ছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি আয়োজক দেশ-যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় একযোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মহোৎসবের সূচনা হবে। ১৬টি আয়োজক শহরে রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট ১১ জুন মেক্সিকোতে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের ফাইনালে পরিসমাপ্তি ঘটবে।

তিন দেশে আলাদাভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হলেও সবগুলো একটি অভিন্ন থিমের ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে-সীমানা পেরিয়ে মানুষকে কাছে আনার ফুটবলের অনন্য শক্তি এবং তিন জাতির ঐক্যের বার্তা। অনুষ্ঠানের প্রধান সৃজনশীল পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অভিজ্ঞ প্রযোজক মার্কো বালিচ। তার পরিকল্পনায় কানাডাকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক হিসেবে, মেক্সিকোকে ঐতিহ্যবাহী পাপেল পিকাডো শিল্পের মাধ্যমে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চের উজ্জ্বল আয়োজক হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, মেক্সিকো সিটি থেকে টরন্টো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে চলতে থাকা এই অনুষ্ঠানগুলো সঙ্গীত, সংস্কৃতি ও ফুটবলকে এমনভাবে একত্রিত করবে, যা প্রতিটি দেশের স্বকীয়তা এবং ঐক্যের চেতনা উভয়কেই প্রতিফলিত করবে।

মেক্সিকো সিটি: ১১ জুন, বৃহস্পতিবার

মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে (পূর্বে এস্তাদিও আজতেকা নামে পরিচিত) প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আদিবাসী শিল্পী, সমসাময়িক লোকনৃত্য ও ঐতিহ্যবাহী পাপেল পিকাডো শিল্পের সমন্বয়ে সাজানো এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলেস, মানা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার শিল্পী টাইলা। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে শাকিরা শিল্পী বার্না বয়ের সঙ্গে তার দাই দাই গানটি পরিবেশন করবেন। উদ্বোধনী দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, স্কুল বন্ধ থাকবে এবং দূরবর্তী কাজ উৎসাহিত করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় স্টেডিয়ামের গেট খুলবে, বেলা ১১টায় (জিএমটি ১৭:০০) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং দুপুর ১টায় (জিএমটি ১৯:০০) মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

টরন্টো, কানাডা: ১২ জুন, শুক্রবার

নিজেদের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজনের ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছে কানাডা। টরন্টো স্টেডিয়ামে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের থিমে সাজানো অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুলে, নোরা ফাতেহি, সঞ্জয়, ভেজেড্রিম এবং উইলিয়াম প্রিন্স। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে (জিএমটি ১৭:৩০) অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং বিকেল ৩টায় (জিএমটি ১৯:০০) কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার।

লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র: ১২ জুন, শুক্রবার

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে বিশাল মাপের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নিয়ে সাজানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। পারফর্ম করবেন কেটি পেরি, ফিউচার, অনিতা, লিসা, রেমা এবং টাইলার। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে (জিএমটি ২৩:৩০) অনুষ্ঠান শুরু হবে এবং সন্ধ্যা ৬টায় (জিএমটি ১৩ জুন ০১:০০) যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ের।

দর্শক সমাগম ও বৈশ্বিক সম্প্রচার

তিনটি স্টেডিয়াম মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ দর্শক সরাসরি গ্যালারিতে বসে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শক এটি টেলিভিশন ও অনলাইনে সরাসরি দেখতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে ইংরেজিতে FOX ও FS1 এবং স্প্যানিশ ভাষায় Telemundo ও Universo-তে সম্প্রচারিত হবে। Tubi অ্যাপে বিনামূল্যে স্ট্রিমিং পাওয়া যাবে। কানাডায় CTV, TSN ও RDS; মেক্সিকোতে Televisa ও TV Azteca এবং যুক্তরাজ্যে BBC ও ITV-তে সম্প্রচার হবে।

নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি

মেক্সিকো সিটিতে শিক্ষক ইউনিয়নসহ কিছু গোষ্ঠীর বিক্ষোভের কারণে সড়ক অবরোধের হুমকি থাকলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কোনো ঝুঁকিতে নেই। লস অ্যাঞ্জেলেসে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোতে কোনো অভিবাসন অভিযান পরিচালিত হবে না। টরন্টোতে বিপুল পর্যটকের চাপ সামলাতে পরিবহন সংস্থাগুলো বিশেষ সেবা বাড়াচ্ছে এবং যানজট নিরসনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো এককভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও কানাডার জন্য এটিই প্রথম অভিজ্ঞতা।

সূত্র: আলজাজিরা



লাইক করুন