রাসেদুল হক, চীফ রিপোর্টার:
সোমবার (২৬ মে) সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করা, বাস, লঞ্চ, রেলস্টেশন কেন্দ্রিক নিরাপত্তা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন ভাতা পরিশোধ ও গমনাগমন, বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক নিরাপত্তা, ঈদ জামাত ও ঈদ পরবর্তী নিরাপত্তাসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পবিত্র ঈদুল ফিতর খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিগত যে কোন বছরের তুলনায় ঢাকাবাসী স্বাচ্ছন্দে সাথে গ্রামের বাড়িতে যেতে পেরেছেন এবং ফিরে এসেছেন যা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। আমরা আশা করি এবারও আমরা সম্মানিত নগরবাসীকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ঈদযাত্রা উপহার দিতে পারব।’
কমিশনার বলেন, ‘দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। চালকরা যেন অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালায় এজন্য তাদেরকে প্রয়োজনীয় ব্রিফিং দিতে হবে।
ঈদ আনন্দ যেন কারো নিরানন্দের কারণ না হয় সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে।’
তিনি সরকারের সকল সংস্থাকে ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার জন্য সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ করেন।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সরওয়ার বলেন, ‘যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ও ঢাকার মোটরযান মেরামত কারখানাগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।’ ঈদ যাত্রায় ফিটনেস বিহীন গাড়ি না চালানোর জন্য অনুরোধ করেন তিনি।
সমন্বয় সভায় অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী প্রতিরোধে ডিএমপির টহল জোরদার করা হবে। ঈদুল আযহা উপলক্ষে বড় ধরনের টাকা বহনের ক্ষেত্রে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া দূরপাল্লার যাত্রার ক্ষেত্রে কাউন্টার ব্যতীত যাত্রী উঠানামা না করানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করেন তিনি।
সমন্বয় সভায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটের প্রতিনিধি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি, বাংলাদেশ ট্রাক চালক শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, লঞ্চ শ্রমিক সমিতি, বিকেএমইএ, বিজিএমইএ, জিএমপি, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাস মালিক সমিতি, লঞ্চ মালিক সমিতি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থা ও সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সেবাদানকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সমন্বয় সভার শুরুতে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস্) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
এরপর সভায় উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতামত তুলে ধরেন।