মোঃ নাঈম উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় জীবন আহমেদ (১৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ছয়ঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাল্টা বাগানের পাশে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি ছাগল রাস্তা পার হওয়ার সময় সেটির সঙ্গে সংঘর্ষ হলে যুবকটি গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত জীবন আহমেদ দামুড়হুদা উপজেলার পারকেষ্টপুর মদনা পশ্চিম পাড়ার আব্দুস সেলিমের ছেলে। তিনি ছয়ঘরিয়া বাজারে তাঁর ভাইদের মুদি দোকানে থাকতেন এবং দোকানের কাজেই মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবন আহমেদ দুপুরে মদনা বাজারের হাজী স্টোরের জন্য মালামাল কিনতে তাঁর মোটরসাইকেলে করে দর্শনার দিকে যাচ্ছিলেন। ছয়ঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে অপ্রত্যাশিতভাবে একটি ছাগল রাস্তা পারাপার হতে যায়।
দ্রুত গতিতে থাকা মোটরসাইকেলের সঙ্গে ছাগলটির সজোরে সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে জীবন আহমেদ সড়কের পাশে ছিটকে পড়েন এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাত পান।
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় জীবনকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরিনা ইয়াসমিন এ দুর্ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “দুপুরের দিকে জীবন আহমেদ নামে এক যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা যায়, তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক ছিল। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হলেও অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।”
নিহত জীবন আহমেদের চাচা, যিনি দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন, তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, “আমি চুয়াডাঙ্গাতেই ছিলাম। হঠাৎ ফোনে খবর পাই আমার ভাতিজা সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে।
সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ছুটে আসি। এখানে এসে জানতে পারি, চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন।
জীবন ছয়ঘরিয়া বাজারে আমাদের মুদি দোকানেই থাকত এবং দোকানের মাল কিনতেই দর্শনায় যাচ্ছিল। পথে ছাগলের সঙ্গে সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে আমরা জানতে পেরেছি।”
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় তাদের কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুলতান মাহমুদ
বলেন, “আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিহতের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।