বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এন্ট্রি পথ সহকারী শিক্ষক। এই সহকারি শিক্ষক মহোদয়গন ২৫-৩০-৩৫-৪০ বছর চাকরি করার পরেও সেই সহকারী শিক্ষক হিসেবেই অবসর গ্রহণ করেন। তার মধ্যে মাত্র ২-৪ জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান। বাকিরা সেই সহকারী শিক্ষক হিসেবেই অবসরে যান।
আমরা এমন এক জাতি,যে জাতি প্রাথমিক শিক্ষকদের একটা ভালো পদবী দিয়েও তাদেরকে মর্যাদাবান বা সম্মানিত করতে পারি নাই।
তারা মূলত সরকারি শিক্ষক,তারপরে মাত্র দুই চার জন প্রধান শিক্ষক হয়ে অবসরে যান। অন্য সব প্রতিষ্ঠানে,দেশের সব সংস্থায় তিন চার পাচ স্তরের পদ-পদবী আছে। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে সেই সহকারী শিক্ষক আর প্রধান শিক্ষক! সরকার হয়তো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড পরিবর্তন করতে যাচ্ছে,আমার প্রস্তাব হল বেতন গ্রেডের পাশাপাশি শিক্ষকদের পদবীরও পরিবর্তন করা হোক। সহকারী শিক্ষক বলে কোন পদবী থাকবেনা,উনি কোন শিক্ষকের সহকারী নন উনি প্রকৃতপক্ষে শিক্ষক। অযথাই তাকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে আমার প্রস্তাবনা হলো:
এন্ট্রি পদ: ১. শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়।
দশ বছর চাকরি পূর্তি সাপেক্ষে,
২. সিনিয়র শিক্ষক,প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিশ বছর চাকরি পূর্তি সাপেক্ষে
৩. সহকারী প্রধান শিক্ষক,প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এরপর পদ খালি থাকা সাপেক্ষে
৪. প্রধান শিক্ষক, প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এই চার স্তরের পদবী প্রবর্তন করতে পারলে আমাদের প্রাথমিক শিক্ষকরা সম্মানিত হবেন,সব ক্ষেত্রেই পদবী অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ৩৫ বছর চাকরি করে সরকারি শিক্ষক হিসেবে অবসরে যাওয়া সত্যিই হৃদয়বা বিদারক! ছেলে মেয়ের বিয়ের সময় তাকে পরিচয় দিতে হয় সহকারী শিক্ষক প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে যা সত্যিই দুঃখজনক।
দেশ গড়ার এসব কারিগরদের আমরা যদি সম্মানিত না করতে পারি তাহলে আসলেই ভাল দেশ,উন্নত দেশ গঠন করা সম্ভব হবে না।
সেই সাথে প্রতিটি পদবী পরিবর্তনের সময় একটি করে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট প্রদান করতে পারলে সোনা সোহাগা হয়।
আমার মনে হয় আলী রিয়াজের সেই চুরাশির দফা সংস্কার প্রস্তাবের চেয়ে আবার দেয়া এই চার পদের সংস্কার দেশের উন্নয়নে অনেক অনেক বেশি অবদান রাখবে।
এটা করতে পারলে আগামী ১০ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে যাবে ইনশাল্লাহ।
কলমেঃ
জাহেদ আলী আনছারী
ব্যবস্হাপনা পরিচালক (কেরু এ্যান্ড কোম্পানি,,,, বাংলাদেশ,, লিমিটেড (অবসরপ্রাপ্ত)
দর্শনা -চুয়াডাঙ্গা।