আলোচিত কণ্ঠ ডেস্কঃ ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তেজনা দিন দিন বেড়ে চলেছে। মোট ৪৮ দলের মধ্যে বর্তমানে ৪২টি দল নিশ্চিতভাবে টিকিট কেটে নিয়েছে, আর বাকি ছয়টি দল আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হবে প্লে-অফের মাধ্যমে। ইতালি, যারা চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে, এবারে অংশ নিতে পারেনি, কিন্তু বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় দলগুলো ইতোমধ্যে এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠান, যেখানে জানা যাবে কোন দল কোন গ্রুপে খেলবে।
বিশ্বকাপের ড্রয়ের আগেই ফুটবলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে পারদর্শী অপ্টার সুপারকম্পিউটার ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করেছে। সুপারকম্পিউটারটি প্রতিটি দলের পারফরম্যান্স, ইতিহাস, খেলোয়াড়ের ফর্ম এবং অন্যান্য নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে জয়ের সম্ভাবনা শতকরা হিসেবে প্রকাশ করেছে।
এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পেনের ১৭ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে শীর্ষে থাকা অস্বাভাবিক নয়। ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন গত বছর ইউরোতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি টানা ৩১ ম্যাচে হারেনি, যা তাদের শক্তি ও ধারাবাহিকতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। স্পেনের এই ফর্ম ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
ফ্রান্স, যারা ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ী এবং ২০২২ সালের রানার্সআপ, তাদেরও জয়ের সম্ভাবনা কম নয়। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলের মতো সুপারস্টারদের নেতৃত্বে ফ্রান্সের সম্ভাবনা ১৪.১ শতাংশ। তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত।
ইংল্যান্ডের সম্ভাবনা ১১.৮ শতাংশ, যেখানে হ্যারি কেইনের দুর্দান্ত নেতৃত্বে বাছাইপর্বে তারা আট ম্যাচে জিতেছে এবং একটি গোলও হজম করেনি। জার্মানি, পর্তুগাল, ব্রাজিলসহ আরও কিছু দলও যথেষ্ট সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে, যদিও প্রতিটি দলের সম্ভাবনা পৃথকভাবে কম বেশি রয়েছে।
বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা মাত্র ৮.৭ শতাংশ। ১৯৬২ সালের পর কোনো দল টানা দুইবার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি, যা আর্জেন্টিনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মেসির জাদু একাই ফলাফল বদলে দিতে পারে।
বিশ্বকাপের জয়ের সম্ভাবনা না থাকলেও জর্ডান, কুরাসাও, হাইতির মতো কিছু দল অংশ নিচ্ছে, যারা এই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।
২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক উৎসব যেখানে ফুটবল প্রেমীরা আনন্দ এবং উত্তেজনায় মাতোয়ারা হবে। এই টুর্নামেন্টের ফলাফল শুধু খেলার দিক দিয়ে নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের দিক দিয়েও বিশাল গুরুত্ব বহন করে। বিশ্বকাপের মাধ্যমে টুরিস্ট আকর্ষণ, স্থানীয় ব্যবসা বৃদ্ধি, এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।
সুতরাং, এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচনা করবে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি অপেক্ষার মুহূর্ত, যেখানে জয়ের জন্য প্রতিটি দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।