মোঃ নাঈম উদ্দীন স্টাফ রিপোর্টার, চুয়াডাঙ্গা। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দরিদ্র এক চালকের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল চুরি যাওয়া পাখিভ্যানটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই চুরির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা থানাধীন খোরদ গ্রামের উব্বাদ আলীর ছেলে মিলন আলী পেশায় একজন পাখিভ্যান চালক।
গত ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত ১০টার পর থেকে ৩ ডিসেম্বর সকাল ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় তার বসতবাড়ী থেকে অজ্ঞাতনামা চোরেরা ভ্যানটি চুরি করে নিয়ে যায়।
একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন মিলন আলী। এই ঘটনায় মিলন আলী বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৯, তারিখ: ২৭/১২/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- ৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড)।
মামলা রুজুর পর চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বানী ইসরাইল-এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান শুরু হয়।
হাটবোয়ালিয়া পুলিশ ক্যাম্পের এসআই (নিঃ) মোঃ মিজানুর রহমান ও সঙ্গীয় ফোর্স চুরির রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামেন।
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই চক্রটিকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. মোঃ উকিল (৪৫): পিতা- মোঃ সানোয়ার হোসেন, সাং- খোরদ, থানা- আলমডাঙ্গা। তাকে ২৭ ডিসেম্বর দুপুর ১:১৫ মিনিটে নিজ বসতবাড়ী থেকে গ্রেফতার করা হয়।
২. মোঃ রেন্টু ইসলাম (৩০): পিতা- হানিফ সর্দার, সাং- রানা খুরিয়া (কদমতলা), থানা- মিরপুর, জেলা- কুষ্টিয়া। তাকে দুপুর ১:৪৫ মিনিটে আলমডাঙ্গার সেবাবাগ বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়।
৩. মোঃ ইসমাইল হোসেন (৩০): পিতা- মোঃ আব্বাস আলী, সাং- বটতৈল, কুষ্টিয়া।
৪. মোঃ সবুজ হোসেন (২৬): পিতা- মোঃ আলী হোসেন, সাং- বটতৈল, কুষ্টিয়া।
সর্বশেষ দুই আসামী ইসমাইল ও সবুজকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল গ্রামস্থ একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে চুরি যাওয়া ব্যাটারি চালিত পাখিভ্যানসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য। তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ভ্যান ও ইজিবাইক চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করে আসছিল।
চুরি হওয়া ভ্যানটি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আসামীদের সংশ্লিষ্ট ধারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
দরিদ্র ভ্যান চালকের চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারে পুলিশের এই তৎপরতা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।