মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তাড়াশে এক রাতে দখল হয়ে গেলো ৬১ বছরের পুরোনো ঈদগাহ মাঠ  বেলকুচিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত, যানজট ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নানা সিদ্ধান্ত তাড়াশে জহুরুল মহুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত দিনভর কর্মসূচিতে মুখর ছিল জনতার কণ্ঠ’র ১ম বর্ষপূর্তি উৎসব তাড়াশে দুই শিক্ষককে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, পেরিফেরিবিহীন মৎস্য আড়তে প্রতিদিন কোটি টাকার বাণিজ্য জনদুর্ভোগ চরমে এক মাস পর সিলেট থেকে উদ্ধার এনায়েতপুরের নিখোঁজ দুই শিশুঃপ্রেস ব্রিফিং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ২ দফা দাবিতে সিরাজগঞ্জে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এনায়েতপুরে হানিফ স’মিলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ‎কাঠের গুদাম পুড়ে ছাই,৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি দাবি ‎ তাড়াশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনার বীজ-সার বিতরণ

অনেক সময় আমরা সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের “আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান”

অনেক সময় আমরা সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদের “আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান” কথাটিকে এমনভাবে বুঝি যেন প্রত্যেক ব্যক্তি, প্রত্যেক পরিস্থিতিতে, একেবারে একই রকম আচরণ পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু সাংবিধানিক আইনের দৃষ্টিতে বিষয়টি এত সরল নয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, “সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।”

এখানে দুটি পৃথক কিন্তু সম্পর্কযুক্ত নীতি রয়েছে—

১. Equality Before Law (আইনের দৃষ্টিতে সমতা)
কোনো ব্যক্তি তার পদমর্যাদা, সম্পদ, ক্ষমতা বা সামাজিক অবস্থানের কারণে আইনের ঊর্ধ্বে নন। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সকলেই আইনের অধীন।

২. Equal Protection of Law (আইনের সমান সুরক্ষা)
এর অর্থ এই নয় যে সকল মানুষকে সব ক্ষেত্রে একইভাবে আচরণ করতে হবে। বরং একই অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে এবং যাদের অবস্থা, প্রয়োজন বা বৈশিষ্ট্য ভিন্ন, তাদের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায্য পার্থক্য করা যেতে পারে।

অর্থাৎ, “সমতা” মানে অন্ধ সমতা নয়; বরং ন্যায়সঙ্গত সমতা।

উদাহরণস্বরূপ—

* নারী ও শিশুর জন্য বিশেষ আইন প্রণয়ন,
* প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সুবিধা,
* মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্দিষ্ট সুবিধা,
* শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কের জন্য পৃথক বিচারব্যবস্থা,

এসবই সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী নয়। কারণ তারা ভিন্ন পরিস্থিতিতে অবস্থান করেন এবং তাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে।

সাংবিধানিকভাবে তাই বলা যায়—

“আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” অর্থ এই নয় যে সবাই অভিন্ন। বরং এর অর্থ হলো, একই অবস্থানে থাকা ব্যক্তিরা একই ধরনের আইনগত আচরণ ও সুরক্ষা পাবেন এবং ভিন্ন অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায়সঙ্গত পার্থক্য করা যাবে।”

বাংলাদেশের উচ্চ আদালতও বিভিন্ন রায়ে বলেছেন যে, সমতার নীতি বৈষম্য নিষিদ্ধ করে, কিন্তু যুক্তিসঙ্গত শ্রেণিবিন্যাস (reasonable classification) নিষিদ্ধ করে না। তাই সংবিধানের সমতার ধারণা হলো ন্যায়ভিত্তিক সমতা (substantive equality), যান্ত্রিক বা অন্ধ সমতা (mechanical equality) নয়।

সংক্ষেপে বলা যায়—

“আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান” মানে সবাইকে একই চোখে দেখা নয়; বরং প্রত্যেককে তার পরিস্থিতি, অধিকার ও প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গত ও বৈষম্যহীন আচরণ নিশ্চিত করা। এটাই সংবিধানের সমতার প্রকৃত দর্শন।
কলমেঃ
এ্যাড,তামান্না আফরিন
সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট আপিল ডিভিশন
ও আইন উপদেষ্টা
জাতীয় প্রতিদিনের আলোচিত কণ্ঠ
রামপুরা, বনশ্রী
ঢাকা -১২০৫



লাইক করুন