📌⚖️বাংলাদেশে কোনো শিশু ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত (যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) যদি আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তাহলে রায়ের পর আসামিপক্ষ ও বাদীপক্ষ উভয়েরই কিছু আইনি করণীয় থাকে। তবে মামলার সুনির্দিষ্ট তথ্যভেদে প্রক্রিয়ায় কিছু পার্থক্য হতে পারে।👇
📌মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর কী হয়?
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Death Reference) High Court Division-এ অনুমোদনের জন্য যায়।
অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিলেই সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসি কার্যকর হয় না।
📌আসামিপক্ষের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
🔹১. আপিল
আসামি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে।
🔹২. ডেথ রেফারেন্স শুনানি
হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে।
সম্ভাব্য ফলাফল:
মৃত্যুদণ্ড বহাল।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর।
পুনর্বিচারের নির্দেশ।
খালাস।
🔹৩. আপিল বিভাগে আপিল
হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে আসামি Appellate Division-এ আপিল করতে পারে।
🔹৪. রিভিউ আবেদন
আপিল বিভাগে পরাজিত হলে রিভিউ আবেদন করতে পারে।
🔹৫. রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষা
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে মার্সি পিটিশন (Mercy Petition) করা যেতে পারে।
📌বাদীপক্ষের করণীয়
🔸১. রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতা
হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দিতে পারে।
🔸২. মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান
আসামির আপিলের বিরোধিতা করতে পারে।
🔸৩. খালাস বা সাজা কমে গেলে
যদি কোনো আসামি খালাস পায় বা সাজা কমে যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে উচ্চতর আদালতে প্রতিকার চাওয়ার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
📌কখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়?
সাধারণত নিম্নোক্ত সব ধাপ শেষ হওয়ার পর:
হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি।
আপিল নিষ্পত্তি।
রিভিউ নিষ্পত্তি।
প্রাণভিক্ষার আবেদন নিষ্পত্তি (যদি করা হয়)।
এরপরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি পথ সম্পূর্ণ হয়।
📌বাস্তবে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর থেকে সব আপিল ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক বছরও লাগতে পারে। তাই রায় ঘোষণার দিন থেকেই আসামিপক্ষের প্রধান লক্ষ্য থাকে সাজা বাতিল বা কমানোর চেষ্টা করা, আর বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের লক্ষ্য থাকে রায় বহাল রাখা।⚖️✍️
কলমেঃ
এ্যাড,উম্মে সালমা শিল্পী
সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট আপিল ডিভিশন
ঢাকা।