বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তাড়াশে এক রাতে দখল হয়ে গেলো ৬১ বছরের পুরোনো ঈদগাহ মাঠ  বেলকুচিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত, যানজট ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নানা সিদ্ধান্ত তাড়াশে জহুরুল মহুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত দিনভর কর্মসূচিতে মুখর ছিল জনতার কণ্ঠ’র ১ম বর্ষপূর্তি উৎসব তাড়াশে দুই শিক্ষককে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, পেরিফেরিবিহীন মৎস্য আড়তে প্রতিদিন কোটি টাকার বাণিজ্য জনদুর্ভোগ চরমে এক মাস পর সিলেট থেকে উদ্ধার এনায়েতপুরের নিখোঁজ দুই শিশুঃপ্রেস ব্রিফিং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ২ দফা দাবিতে সিরাজগঞ্জে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এনায়েতপুরে হানিফ স’মিলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ‎কাঠের গুদাম পুড়ে ছাই,৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি দাবি ‎ তাড়াশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনার বীজ-সার বিতরণ

বাংলাদেশে কোনো শিশু ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত (যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) যদি আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়

📌⚖️বাংলাদেশে কোনো শিশু ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালত (যেমন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল) যদি আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তাহলে রায়ের পর আসামিপক্ষ ও বাদীপক্ষ উভয়েরই কিছু আইনি করণীয় থাকে। তবে মামলার সুনির্দিষ্ট তথ্যভেদে প্রক্রিয়ায় কিছু পার্থক্য হতে পারে।👇

📌মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর কী হয়?
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হওয়ার আগে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে (Death Reference) High Court Division-এ অনুমোদনের জন্য যায়।
অর্থাৎ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিলেই সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসি কার্যকর হয় না।

📌আসামিপক্ষের পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
🔹১. আপিল
আসামি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারে।
🔹২. ডেথ রেফারেন্স শুনানি
হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল, পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারে।
সম্ভাব্য ফলাফল:
মৃত্যুদণ্ড বহাল।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তর।
পুনর্বিচারের নির্দেশ।
খালাস।
🔹৩. আপিল বিভাগে আপিল
হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে আসামি Appellate Division-এ আপিল করতে পারে।
🔹৪. রিভিউ আবেদন
আপিল বিভাগে পরাজিত হলে রিভিউ আবেদন করতে পারে।
🔹৫. রাষ্ট্রপতির নিকট প্রাণভিক্ষা
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে মার্সি পিটিশন (Mercy Petition) করা যেতে পারে।

📌বাদীপক্ষের করণীয়
🔸১. রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতা
হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দিতে পারে।
🔸২. মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান
আসামির আপিলের বিরোধিতা করতে পারে।
🔸৩. খালাস বা সাজা কমে গেলে
যদি কোনো আসামি খালাস পায় বা সাজা কমে যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপক্ষের মাধ্যমে উচ্চতর আদালতে প্রতিকার চাওয়ার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।

📌কখন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়?
সাধারণত নিম্নোক্ত সব ধাপ শেষ হওয়ার পর:
হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি।
আপিল নিষ্পত্তি।
রিভিউ নিষ্পত্তি।
প্রাণভিক্ষার আবেদন নিষ্পত্তি (যদি করা হয়)।
এরপরই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইনি পথ সম্পূর্ণ হয়।

📌বাস্তবে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর থেকে সব আপিল ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ হতে অনেক বছরও লাগতে পারে। তাই রায় ঘোষণার দিন থেকেই আসামিপক্ষের প্রধান লক্ষ্য থাকে সাজা বাতিল বা কমানোর চেষ্টা করা, আর বাদীপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের লক্ষ্য থাকে রায় বহাল রাখা।⚖️✍️
কলমেঃ
এ্যাড,উম্মে সালমা শিল্পী
সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট আপিল ডিভিশন
ঢাকা।



লাইক করুন