মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
তাড়াশে এক রাতে দখল হয়ে গেলো ৬১ বছরের পুরোনো ঈদগাহ মাঠ  বেলকুচিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত, যানজট ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নানা সিদ্ধান্ত তাড়াশে জহুরুল মহুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত দিনভর কর্মসূচিতে মুখর ছিল জনতার কণ্ঠ’র ১ম বর্ষপূর্তি উৎসব তাড়াশে দুই শিক্ষককে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, পেরিফেরিবিহীন মৎস্য আড়তে প্রতিদিন কোটি টাকার বাণিজ্য জনদুর্ভোগ চরমে এক মাস পর সিলেট থেকে উদ্ধার এনায়েতপুরের নিখোঁজ দুই শিশুঃপ্রেস ব্রিফিং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ২ দফা দাবিতে সিরাজগঞ্জে শাখা ডাকঘর কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এনায়েতপুরে হানিফ স’মিলে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ‎কাঠের গুদাম পুড়ে ছাই,৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি দাবি ‎ তাড়াশে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনার বীজ-সার বিতরণ

জনগণের রায় বনাম রাজনৈতিক নিয়োগ: গণতন্ত্রের মর্যাদা কোথায়?

ইয়াসির আরাফাত মিলন; গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের মতামত ও ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন। একটি নির্বাচনে জনগণ যাঁকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন, তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন করেন। অন্যদিকে যিনি পরাজিত হন, তিনি জনগণের সেই আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন—এটাই গণতান্ত্রিক বাস্তবতা।

রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে নিজেদের নেতা-কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। কোনো পদ যদি দলীয় বা অস্থায়ী প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ হয়, সেখানে ভোটাভুটি ছাড়াই যোগ্য ও অভিজ্ঞ কোনো নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে সাধারণত তেমন বিতর্ক সৃষ্টি হয় না। কারণ এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল তাদের সাংগঠনিক প্রয়োজন ও কৌশল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।

কিন্তু প্রশ্ন দেখা দেয় তখন, যখন জনগণের ভোটে পরাজিত কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত বা প্রায় সমমর্যাদার কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়। কারণ ভোটাররা যখন একজন প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তখন তাঁকে অন্য কোনো পথ দিয়ে প্রায় একই ধরনের ক্ষমতা বা মর্যাদার আসনে বসানো জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান করার মধ্যেও এর প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। জনগণ যদি কোনো ব্যক্তিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত মনে না করেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দল ও সরকারের শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় ভোটারদের মনে এই ধারণা জন্ম নিতে পারে যে তাঁদের ভোটের মূল্য শেষ পর্যন্ত তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না।

অবশ্য এর বিপরীত যুক্তিও রয়েছে। অনেক সময় কোনো প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হলেও তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা বা বিশেষজ্ঞ জ্ঞান রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে উপদেষ্টা বা বিশেষ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়। তবে এমন নিয়োগের ক্ষেত্রেও জনমতের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার প্রশ্নটি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের ভোটই সর্বোচ্চ বিচারক। তাই নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার আগে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের রায়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার বিষয়গুলো গভীরভাবে বিবেচনা করা। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, আর সেই রায়ের অবমূল্যায়ন গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি ক্ষমতা অর্জনে নয়, বরং জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার মধ্যেই নিহিত। তাই জনগণ যাকে নির্বাচিত করেছে, তার প্রতি শ্রদ্ধা এবং যাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই রায়ের প্রতিও সম্মান দেখানোই একটি দায়িত্বশীল ও গণতন্ত্রমনা সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।

কলমেঃ

ইয়াসির আরাফাত মিলন

সম্পাদক ও প্রকাশক

জাতীয় প্রতিদিনের আলোচিত কণ্ঠ

রামপুরা, বনশ্রী

ঢাকা ১২০৫



লাইক করুন