বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে তিন দেশে একযোগে আলমডাঙ্গা বেলগাছিতে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার  চুয়াডাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযান: ১২০ গ্রাম গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার, ২ জনের কারাদণ্ড জামায়াতের ছায়া বাজেট প্রস্তাব ৮ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা তাড়াশে আগুনে পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ১ কোটি টাকা  সিরাজগঞ্জে যানজট নিরসন সিএনজি মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভ অবসরের সিদ্ধান্ত বদলালেন পলাতক শেখ হাসিনা চাঁদপুরে যানজট নিরসনে প্রশংসার জোয়ারে টিআই (এডমিন) প্রবীর কুমার দাস, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ফিরছে সড়কে শৃঙ্খলা বাজেটে কমতে পারে নিত্যপণ্য ও ওষুধের দাম ৪নং বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসাবে এগিয়ে এ্যাডভোকেট নুরে আলম সিদ্দিকী এপিপি

বাজেটে কমতে পারে নিত্যপণ্য ও ওষুধের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই প্রথম বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চিকিৎসাসামগ্রী, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক কর ও শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব আসতে পারে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। পাস হলে এটি হবে দেশের ৫৫তম বাজেট।

প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং মোট ঘাটতি থাকতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ।

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ ৬০টি কৃষি ও ভোগ্যপণ্যে উৎসে করের হার কমিয়ে ০.৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব আসতে পারে। বর্তমানে এসব পণ্যে ১ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত উৎসে কর প্রযোজ্য। পাশাপাশি রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারেরও পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১০ বছরের জন্য শূন্য শতাংশ করহারের সুবিধা দেওয়া হতে পারে।

চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ

কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করা হতে পারে। এতে প্রতিটি ডায়ালাইসিসে খরচ প্রায় ৬০০ টাকা কমে আসতে পারে। ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৬৮টি কাঁচামালে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ৯টি কাঁচামালে কর রেয়াতের প্রস্তাবও আসতে পারে। হার্টের রিং ও চোখের লেন্সে বিদ্যমান ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার এবং শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের ১৫টি পণ্যে অগ্রিম আয়কর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ

রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহে উৎসে কর ১.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। বিদ্যুৎ ক্রয়ে উৎসে কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ২০৩৫ সাল এবং সৌর যন্ত্রপাতি আমদানিতে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির প্রস্তাব আসতে পারে।

মোবাইল ও প্রযুক্তিপণ্য

মোবাইল সিমে বিদ্যমান ৩০০ টাকার কর বাতিল হতে পারে। স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২টি কাঁচামালে উৎসে কর ১ শতাংশ নির্ধারণ এবং মূসক অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবায় উৎসে কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং বিটিআরসির রেভিনিউ শেয়ার ও লাইসেন্স ফিতে প্রযোজ্য ২০ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহারেরও প্রস্তাব আসতে পারে। কম্পিউটার প্রিন্টার, মনিটর ও ফ্ল্যাশ মেমোরিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইলেকট্রিক যানবাহন ও স্বর্ণ

পরিবেশবান্ধব যানবাহন উৎসাহিত করতে ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন, বাস ও ট্রাক আমদানিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য শতাংশ করা হতে পারে। ইলেকট্রিক গাড়ির নিবন্ধনে আগাম আয়কর ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৫ শতাংশ এবং জুয়েলারি সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাবও আসতে পারে।

এনবিআর সূত্রে আরও জানা গেছে, শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ এবং রেগুলেটরি শুল্কের স্তর ৯টি থেকে কমিয়ে ৬টিতে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১১৩টি পণ্য থেকে ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হতে পারে।



লাইক করুন