রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চৌহালীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতার অভিযোগ, অপসারণের দাবি চৌহালীতে কোদালিয়া খালের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো ও হেলে পড়া বিদ্যুৎ খুঁটি: আতঙ্কে এলাকাবাসী তাড়াশে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা বাবুল শেখ গ্রেফতার বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর আমরণ অনশন, উল্লাপাড়ায় চাঞ্চল্য সিরাজগঞ্জে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন সিরাজগঞ্জে বন্যা প্রস্তুতি ও জেলা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত সলঙ্গায় সালাম নামে এক জনের মরাদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ সিরাজগঞ্জে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত এক যুগ পর কামারপাড়া বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন: সভাপতি লাবলু, সম্পাদক আনোয়ার নির্বাচিত বেলকুচিতে ব্র্যাকের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ

ওস্তাদ আবুল হোসেন- যার সেতারের সুর আজও অনুরণিত হয় হৃদয়ের বাম অলিন্দ থেকে ডান অলিন্দে! *****************************

ওস্তাদ আবুল হোসেন-
যার সেতারের সুর আজও
অনুরণিত হয় হৃদয়ের
বাম অলিন্দ থেকে ডান অলিন্দে!
*****************************
লেখকঃ বজলুর রহমান, থানাপাড়া, দর্শনা ,চুয়াডাঙ্গা।

সীমান্তের ছোট্ট শহর দর্শনা!
এই শহরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ওস্তাদ আবুল হোসেন প্রায় হারিয়ে যাওয়া একটি নাম! যিনি ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীত এবং যন্ত্র সংগীতের উজ্জ্বল তারকা! প্রাচীন ভারতের ত্রিতান্ত্রী বীনা যাকে হযরত আমির খসরু হৃদয়গ্রাহী সুরে বেঁধে, দিয়েছিলেন নাম সেতার। এই ত্রিতান্ত্রিক বীনা থেকে সেতার। এই বাদ্যযন্ত্রের প্রতি তিনি দুর্বল ছিলেন শৈশব থেকেই! প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মফস্বল থেকে সেতার শেখার সুযোগ নেওয়া বা পাওয়া আসলেই কঠিন! একদিন নাটকীয় ভাবে সেই সুযোগ তাঁর হাতে এসে ধরা দেয়! সে কথাই পরে আসছি! তাঁর সেতারের সুর ব্যঞ্জনা ছড়াবে আরো অনেক দিন নিজ হাতে গড়া শিষ্যদের মাধ্যমে! সংস্কৃতির অঙ্গনে একেই বলা হয় গুরু শিষ্য পরম্পরা!

আজ ২৯ সেপ্টেম্বর ওস্তাদজির ১৬ তম বর্ষ প্রয়াণ দিবস! তিনি ১৯২০ সালে নদীয়া জেলার রানাঘাট মহাকুমার চাকদহ থানার শিমুরালি পঞ্চায়েতের নওদা- দুর্গাপুরে জন্মগ্রহণ করেন! ২০০৭ সালে সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের আজকের দিনে তিনি পরপারে পাড়ি জামান!

ওস্তাদজির জীবনী সাজাতে সহায়তা পেয়েছি তার সন্তান আহামদ হোসেনের ডায়েরির পাতা থেকে! বন্ধু সম আহামদ হোসেন যেভাবে তার বাবার চরিত্র চিত্রাহিত করেছেন! সরাসরি আমরা সেখানেই চলে যাই!
বাংলা তখনো ভাগা হয়নি। সেই বৃহত্তর বাংলার একটি জেলার নাম নদীয়া। কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে শুরু করে সুদুর নৈহাটি পর্যন্ত ছিল এই জেলার বিস্তৃতি। বিভাজিত দুই বাংলার তৎকালীন জেলা শহরের নাম কৃষ্ণনগর! জেলার মহাকুমা শহর রানাঘাট। রানাঘাট মহাকুমার থানা শহরের নাম চাকদহ । চাকদহ থানার একটা পঞ্চায়েতের নাম শিমুরালি । এই পঞ্চায়েতের আওতাধীন গ্রামগুলোএকটা নওদা-দূর্গাপুর! এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন ওস্তাদ আবুল হোসেন!
চাকদহ থানা শহর!তখন দুই বাংলার মধ্যে ট্রেন চলাচল ছিল। অর্থাৎ শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে করে মানুষ নৈহাটি কাঁচরাপাড়া,কল্যাণী,শিমুরালি,পালপাড়া,চাকদহ, রানাঘাট, হয়ে গেদের উপর দিয়ে দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা হয়ে দার্জিলিং বা আসামে যাতায়াত করতেন। এই ট্রেনে চেপে কলকাতা সহ বিভিন্ন শহরের সংগীত শিক্ষার প্রয়োজনে ঘুরতেন আমাদের ওস্তাদজি!

উপরে উল্লেখিত নওদা-দূর্গাপুরে ১৯২০ সালের কোন এক শুভক্ষণে বাবা নটবর মন্ডলের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেন এই ছেলে। নাম রাখা হয় আবুল হোসেন। তবে গ্রামের মানুষের বিকৃত উচ্চারণে আবুল থেকে নামটি হয়ে যায় হাবুল।অল্প বয়সে মা-বাবাকে হারিয়ে তিনি বেশ অসহায় হয়ে পড়েন । হাবুলের বাবা ছিলেন নাটকের মানুষ। সেজন্যই গ্রামের মানুষ নাম রাখেন নটবর। বাড়ির সামনে বৈঠকখানা, তার পাশেই অস্থায়ী নাট্যমঞ্চ। আশেপাশের গ্রাম থেকে মানুষ এসে এখানে শখের নাটক করতেন এবং দেখতেন।
বাবা বড় জোতদার না হলেও বেশ বড় অংকের জমিজমা রেখে যায়।সদ্য মা- বাবা হারা ছোট ভাগ্নেকে তাঁর মামারা এসে তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যায়। মামা বাড়ি খুব দূরে নয়। সেখানে মামাতো ভাই – বোন সহ অন্যান্য ছেলে-মেয়েদের সাথে খেলা ধুলা করা এবং সমবয়সী রাখাল ছেলেদের সাথে মাঠে গরু ছাগলের পিছনে ঘোরাঘুরি এবং কখনো সখনো সমবয়সী ছেলে-মেয়েদের সাথে পাঠশালায় যাওয়ায় ছিল তাঁর নিত্যদিনের কাজ। কিন্তু মামার বাড়ি তার ভালো লাগতো না।তাকে টানতো তার নিজ গ্রাম। সেই টানে একসময় তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। নিজের গ্রামের জ্ঞাতি সম্পর্কের ভাই ভাবীরা তার বেড়ে উঠতে ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে সন্তানহীনা এক বড় ভাবি নিজ সন্তান জ্ঞানে তাকে মানুষ করতে থাকেন। ভাবী তাকে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন। কিন্তু ছোট বেলায় মা- বাবা হারা ছেলের বিদ্যালয়ের বাধা-ধরা নিয়ম ভালো লাগতো না।

যাই হোক এভাবে চলতে চলতে বয়স বাড়তে লাগলো। সেই সময় আশ পাশের গ্রাম উপ-শহর গুলোতে কোন গান বাজনার অনুষ্ঠান হলে যে কোন মূল্যে সেখানে তিনি উপস্থিত হয়ে মনোযোগ সহকারে অনুষ্ঠান উপভোগ করতেন। নিজের গ্রামের পাশেই যশড়া নামক স্থানে হরহামেশাই যাতায়াত ছিল তার। সেখানকার মন্দিরের নাম কীর্তন শুনতে পছন্দ করতেন তিনি। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা তাই যেখানে সেখানে সনাতনী মেলা, রাস মেলা এবং সেসব মেলায় বিভিন্ন ধরনের গানের অনুষ্ঠান হতো এবং সেগুলো তিনি তখন থেকেই নিজের মধ্যে ভালো ভাবে রপ্ত করতে পছন্দ করতেন। যশড়ায় যাতায়াত করা কালীন সময় শুকৃতি বন্দোপাধ্যায় ওরফে পাঁচু ঠাকুরের নজরে পড়ে যায় এই ভবঘুর কিশোর টি। পাঁচু ঠাকুর একজন গুণী ব্যক্তি এবং চির কুমার। মাঝে মধ্যে নিজ এলাকায় পুরোহিতের অনুপস্থিতিতে মন্দিরে পূজা অর্চনার কাজগুলো তিনিই সম্পন্ন করতেন। পাঁচু ঠাকুরের ছোট ভাই সুবোধ বন্দোপাধ্যায় এবং তিনিও ছিলেন চির কুমার। হাবুল এবং সুবোধ একই বয়সের। একদিকে বয়স বাড়ছে অপরদিকে সংগীত পরিবেশনের সক্ষমতাও বাড়ছে। ওই সময় চাকদহ থানার এমন কোন মন্দির ছিল না যেখানে হাবুলের পায়ের ছাপ পড়েনি। তার মন্দিরে গমন ধর্মীয় বিষয়ের জন্য নয়! তিনি যেতেন সঙ্গীতের কারণে!

বয়স আনুমানিক ১৫/১৬ বছর!
তখন থেকে মনোযোগী ছিলেন শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি। প্রথম দিকে নিজ এলাকায় পরবর্তীতে বড় মাপের ওস্তাদের কাছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নিতে শুরু করেন। তারপর শহর উপ-শহর সহ আশেপাশের বিভিন্ন জলসায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা বাড়াতে থাকেন। অপরদিকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের উপর বড় মাপের প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে কৃতিত্ব অর্জন করতে থাকেন।
সেই সময় নিজের গ্রামে গানের চর্চা করার কারণে তার উপর সঙ্গীত বিরোধী কিছু মানুষ নানা রকম মানসিক চাপ দিতে শুরু করে। এক পর্যায়ে গ্রাম থেকে বেশ দূরে ফাঁকা মাঠে হারমোনিয়াম নিয়ে সঙ্গীত চর্চা চালিয়ে যেতেন তিনি। এমনকি গ্রামের অদূরে রাতের আঁধারে বিলের মধ্যে গলা পর্যন্ত পানিতে নেমে সঙ্গীত চর্চা করার কাজ চালিয়ে যেতেন। তবুও সঙ্গীত চর্চা থেকে সরে দাঁড়ায়নি। প্রতিদিন বিকেলে থানা শহরে চলে যেতেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত চর্চা করতে। এই সঙ্গীত চর্চার মাঝে মন্দিরে মন্দিরে সব ধরনের কীর্তন পরিবেশন করার কাজটা অব্যাহত ছিল। কীর্তন পরিবেশন করার দীক্ষা বা পথ দেখিয়ে ছিলেন সুকৃতি বন্দোপাধ্যায় ওরফে পাঁচু ঠাকুর এবং তাকে শিক্ষা গুরু হিসেবে মেনে নিয়েই তাঁর পথ চলা। পাঁচু ঠাকুরের ভাই সুবোধ বন্দোপাধ্যায় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু তার সাথে চাকদহ বাজারে একটা বই এর লাইব্রেরী দিয়েছিলন। যার নাম দেয়া হয়েছিল সবিতা লাইব্রেরি।
বাবার রেখে যাওয়া জমাজমির উপর তার তেমন ভ্রুক্ষেপ ছিল না। কারণ তিনি তেমন বৈষয়িক ছিলেন না!বরং গ্রামের গানের ক্লাব তাকে টানতো বেশি। সঙ্গীত জগতের সাথে এমন ভাবে জড়িয়ে ছিল যে বাড়িতে মন বসতে চাইতো না! তার মামা বাড়ির গ্রামের নাম চাঁদমারি। সেই গ্রামে ছিলেন একজন মাষ্টার মহাশয়। তিনিও ছিলেন সঙ্গীত অনুরাগী এবং কলকাতার নামকরা ওস্তাদ বা বড় মাপের গুণী শিল্পীদের সাথে ছিল তাঁর সুসম্পর্ক। সেই সময় মাঝে মাঝেই মামা বাড়ির পাশে কল্যাণী শহরে ছোট বা বড় পরিসরে সংগীতের জলসার আয়োজন করা হতো। সেই সব জলসাতে কলকাতার শিল্পীরা আসতেন। এই সব অনুষ্ঠানের সাথে নিজেকে সব সময় জড়িয়ে রাখতেন। চাঁদামারির মাস্টার মশাইয়ের নাম মানিক মিয়া। তিনি এলাকায় মানিক মাষ্টার নামে পরিচিত। তার বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই সঙ্গীত চর্চার আসর বসতো। চাঁদামারিতে অবস্থান কালে প্রায় দিনই তার বাড়িতে সময় কাটাতে পছন্দ করতেন! কারণ মানিক মাষ্টারের ছেলে মোঃ আজিজুল ইসলাম ছিল তাঁরই সমবয়সীরা এবং বন্ধু! আজিজুলেরও সংগীতের প্রতি ঝোক ছিল!

মানিক মাস্টার সহ এলাকার সংগীত অনুরাগী ব্যক্তিবর্গের অনুপ্রেরণায় চাঁদমারি সংলগ্ন শহর কল্যাণীতে বড় একটি সংগীত আসরের আয়োজন হয় এক সময়। সেই অনুষ্ঠানে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর বংশধর তখনকার প্রখ্যাত সেতারের ওস্তাদ, ওস্তাদ আলী আহাম্মদ খাঁন সাহেবকে আমন্ত্রণ করা হয়! সেই মঞ্চে মানিক মাস্টারের প্রচেষ্টায় এলাকার ছেলে হাবুল অর্থাৎ আমাদের ওস্তাদ আবুল হোসেন একটি গান গাওয়ার সুযোগ পাই। তিনি সেই মঞ্চে একটি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন! তখনই ওস্তাদ আলী আহাম্মদ সাহেবের নজরে আসেন এবং কাছে ডেকে পিঠে চাপড়ে বলেন,” গ্রামে থেকে ভালোই তো উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত রপ্ত করেছো”!
এমন একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন মানিক মাষ্টার সহ আমাদের ওস্তাদজি! এরপর ওস্তাদ আলী আহমেদ খাঁ তাকে কলকাতায় ডেকে নেন! সেই থেকে সেতারে তালিম চলতে থাকে। পাশাপাশি কণ্ঠে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত চর্চা এবং ছাত্রদের শেখানোর কাজটা অব্যাহত থাকে। সেতারে তালিম চলাকালীন সময়ে কৃষ্ণনগর, মুর্শিদাবাদ,কালনা, রানাঘাট, নবদ্বীপ, বর্ধমান, হুগলি, কল্যাণী, কাঁচরাপাড়া, নৈহাটি সহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করতে তাঁর ডাক আসতে থাকে। কারণ ওই সময় হাবুল ছাড়া তেমন কোন সেতার বাজিয়ে ছিলো না ওই এলাকায়।
পশ্চিমবঙ্গে থাকা কালীন অনেকে তাঁর কাছে তালিম নিয়েছিলেন! কেউ কেউ কণ্ঠে আবার কেউ বা সেতারে। তার নিজ শহর চাকদহতে দুজন সেতারী শিষ্য তিনি তৈরি করেছিল।একজন শিবু দত্ত অপরজন নির্মল চৌধুরী।

আনুমানিক ১৯৫০ সালের দিকে হাবুল পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। সেই সময় আব্দুল আলীম, আব্বাস উদ্দিন সহ স্বনামধন্য শিল্পীবৃন্দের সাথে দেখা করেন এবং তাঁদের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে গান ও সেতার পরিবেশন করে সবার মন জয় করেন। তবে সেই সময় তারা স্বদেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তারা বলেন, “এদেশে শাস্ত্রীয় সংগীতের কেউ দাম দেবে না। আমরা কেউ পল্লীগীতি আবার কেউ ভাটিয়ালি গেয়ে টিকে আছি। সুতরাং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বদেশে ফিরে যান”। ওই রকম কথা শুনে কেউ কি স্বেচ্ছায় নিজ হাতে নিজের পায়ে কুড়াল মারতে চায়?ওই সময় হাবুল ফরিদপুর এবং বরিশালেও যান ভাগ্যান্বেষণে। কোথাও তেমন সুবিধা করতে না পারে উপরোক্ত গুণীজনদের পরামর্শে স্বদেশে ফিরে আসেন। ফিরে কৃষি কাজ, সবিতা লাইব্রেরী এবং গান বাজনার চর্চা আরও বাড়িয়ে দেন।

৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সাল ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলো। তখন তার নিজ গ্রাম সহ আশে পাশের মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে সুযোগ সন্ধানীদের অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়,ফলে তাঁর দেশ ত্যাগের ইচ্ছে তীব্র হতে থাকে। যদিও গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দেশ ত্যাগ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা? পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হঠাৎ একদিন দুপুরের পর পরিবারসহ পশ্চিম থেকে পূর্বের পথে রওনা হয়ে যান! গ্রাম ছেড়ে আসার সময় হাবুল মাষ্টার সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ শুরু হয় শিকড় ছেড়ে আসার কারণে। গ্রামের বহু মানুষ কাতারে দাঁড়িয়ে তাদের প্রিয় মানুষ হাবুল মাষ্টার সহ পরিবারের সবাইকে শেষ বারের মত বিদায় জানায়।এক অজানার উদ্দেশ্যে স্বদেশ ছেড়ে অজ্ঞাত দেশে অনিশ্চিতের পথে পাড়ি জমান হাবুল মাষ্টার তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। মালামাল সহ চাকদহ স্টেশন থেকে ট্রেনে মাজদিয়া স্টেশন। সেখান থেকে ঘোড়ার গাড়ি করে ভারতের সীমান্ত গ্রাম কালোপোলে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। ঐ রাতের ভোরে ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রাম পার হয়ে অজ্ঞাত দেশের গ্রাম ঝিনাইদহে মহেশপুরের রায়পুরে এসে উঠেন একজন অপরিচিত কিন্তু হৃদয়বান মানুষের বাড়িতে। পর দিন রায়পুর ছেড়ে জিন্নাহনগর এসে বাস যোগে প্রথমে দৌলতগন্জ। সেখান থেকে ঘোড়ার গাড়ি যোগে চুয়াডাঙ্গার বেগমপুর এক নিকট আত্মীয়র বাড়িতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা নেমে আসে।

নতুন দেশে নতুনভাবে শুরু হয় জীবন সংগ্রাম!
এক অজানা দেশে পৌঁছে প্রথমে কিছু দিন সবার মন বেশ দুঃখ ভারাক্রান্ত। এভাবেই বেশ কিছু দিন কেটে যায়। তারপর শুরু হলো কাজের সন্ধান। বিশেষ করে সংগীত জগতের মানুষগুলোর সাথে যোগাযোগ করা। সেই সময় চুয়াডাঙ্গা মহাকুমা, বর্তমান তা জেলা শহর। চুয়াডাঙ্গায় উপস্থিত হয়ে গুনী শিল্পীবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করে নিজের পরিচয় দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করে সে মোতাবেক পথ চলা। পরবর্তীতে দর্শনা আসা এবং দর্শনার গুনী শিল্পীবৃন্দের সাথে পরিচয় আদান প্রদান বা মত বিনিময় সাপেক্ষে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এভাবে কিছু দিন চুয়াডাঙ্গা দর্শনা যাতায়াত করতে করতে চুয়াডাঙ্গা এবং সেই সাথে দর্শনাতে বেশ কিছু গানের টিউশনি যোগাড় হলো এবং তখন থেকেই তিনি ওস্তাদজি নামে পরিচিত হয়ে গেলেন।সেই সময় অর্থাৎ ১৯৬৫/৬৬ সালের কথা! দর্শনাতে তখন ছিলেন বেতার শিল্পী ওস্তাদ হাসমত আলী চৌধুরী, মোঃ জানে আলম, সংগীত শিল্পী আবু বকর ড্রাইভার, মোঃ আব্দুল গফুর, তবলা এবং বেহালা বাদক শ্রী ক্ষিতিশ চন্দ্র কুণ্ডু, বংশীবাদক মোঃ শের আলী,বিশিষ্ট সঙ্গীত অনুরাগী ডাঃ ফজলে কিবরিয়া, বিশিষ্ট সঙ্গীত অনুরাগী ডাঃ এস আলম, দর্শনার কাস্টমস্ অফিসার আলতাফ হোসেন এবং বাহারাম উদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট সঙ্গীত অনুরাগী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল লতিফ, রসায়নবিদ আনসার আলী কেরু এন্ড কোম্পানি। অধ্যাপক আব্দুল মজিদ দর্শনা কলেজ প্রমুখ।

তিনি এদেশে আসার পর নাগরিকত্ব পাওয়া নিয়ে সমস্যাই পড়েছিলেন। সেই সময় কয়েকজন সহৃদয়বান ব্যক্তির মাধ্যমে দর্শনা ইউনিয়ন কাউন্সিলর চেয়ারম্যান কর্তৃক নাগরিকত্ব সনদপত্র যোগাড় হয়েছিল। তারপর কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ডোমেনশিয়াল সনদ যোগাড় করতে হয়। এর মধ্যে আরও কিছু গানের টিউশনি পাওয়া যায়। বিশেষ করে কেরু এণ্ড কোম্পানির বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসার এবং কর্মচারীদের বাসাতে। সেই সময় কেরু এণ্ড কোং এর শ্রমিক ক্লাব সংলগ্ন একটা গানের ঘর ছিল এবং সেখানে নিয়মিত গানের চর্চা হতো। এখানে বসতেন ওস্তাদজি।
অপর দিকে” পূরবী সঙ্গীত পরিষদ ” নামে একটি সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল দর্শনাতে। যার পরিচালনায় ছিলেন ওস্তাদ মোঃ হাসমত আলী চৌধুরী, ডাঃ ফজলে কিবরিয়া প্রমুখ।এছাড়াও ছিলেন শামসুল আলম বা আলম ভাই।কেরু এণ্ড কোং এর গানের ঘর সহ পূরবী সঙ্গীত পরিষদে নিয়মিত যাতায়াত ছিল এই গুনী শিল্পীর । এই পূরবী সংগীত পরিষদ এখন হিন্দোল সংগীত পরিষদ নামে পরিচিত। পূরবী সঙ্গীত পরিষদ বা হিন্দোল সংগীত পরিষদের প্রতি আশীর্বাদ ছিল উপমহাদেশের প্রখ্যাত নজরুল সংগীত শিল্পী সোহরাব হোসেনের। এছাড়াও নজরুল সংগীত শিল্পী এম এ মান্নান প্রতিনিয়ত এই সংগঠনের প্রতি সদয় দৃষ্টি রেখে চলেছেন। হিন্দোল সংগীত পরিষদের পরিচালনায় বর্তমানে যারা আছেন সৈয়দ মজনুর রহমান, নজরুল ইসলাম, শফিকুল আলম, টিটু খান প্রমূখ।

চুয়াডাঙ্গাতে গানের টিউশনি বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্পী তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। ইতোমধ্যে রেডিও পাকিস্তান রাজশাহীতে অডিশন দিয়ে নিয়মিত সেতার শিল্পী হিসেবে নিয়োগ পান এবং প্রতি মাসে একবার কোন মাসে দুইবার রেডিও রাজশাহীর ডাকে সাড়া দিয়ে সেতারের প্রোগ্রাম করতেন। তিনি মুলত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের উপর সেতার বাজাতেন অর্থাৎ উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের শিল্পী।এরই মাঝে দর্শনার কেরু এণ্ড কোং এর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে।সেই সাথে ডাঃ ফজলে কিবরিয়া, ওস্তাদ মোঃ হাসমত আলী চৌধুরী প্রমুখর সুপারিশে কেরু এণ্ড কোম্পানির কৃষি খামারে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি হয় । চাকরির সুবাদে শিল্পীকে দর্শনা থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তাই ওস্তাদজি চুয়াডাঙ্গা ছেড়ে পরিবার পরিজন সহ দর্শনাতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। কেরুর অফিসার্স কলোনিতে টিউশনির কারণে সেই সময়ের গ্যারেজ ইন্জিনিয়ার সাহেব গ্যারেজে স্থায়ীভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। এভাবে গানের টিউশনি, রাজশাহীতে রেডিও প্রোগ্রাম এবং কেরু এণ্ড কোম্পানির চাকরি চলতে থাকে।

ব্যক্তিগত জীবনে ওস্তাদজি ৫ সন্তানের জনক। দুই পুত্র তিন কন্যা সন্তান। উনার সহধর্মিনী গত হয়েছেন! সম্মান জানাই এই ভদ্র মহিলার প্রতি যিনি প্রতিনিয়ত খেয়ালী এই মানুষটির প্রতি আস্থা রেখে নিজ দায়িত্বে নিজেদের সংসারকে আগলে রেখেছিলেন!

এরপর এলো ১৯৭১ স্বাধীনতার মহান মুক্তিযুদ্ধ।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সপরিবারে ভারতে প্রবেশ করেন এবং তার নিজের গ্রামে, নিজের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। ১৯৭১ দর্শনা সহ দেশের অন্যান্যদের সাথে শরনার্থী ক্যাম্পে না থেকে নিজের গ্রামে থেকেই শরনার্থী শিবিরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় নিজের সবটুকু উজাড় করে দেন। দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তি যুদ্ধের পর দেশ স্বাধীন হলে তিনি সপরিবারে পুনরায় দর্শনা ফিরে আসেন। আবারো তিনি কেরুর চাকরিতে যোগদান করেন।
দেশ স্বাধীন হবার পর বাংলাদেশে চলে আসার সময় ভারতের তার শেষ সম্বল ভিটেবাড়ি টুকু বিক্রি করে দেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দর্শনা ফিরে এসে তবলা বাদক শ্রী দীপক কুমার কুণ্ডু ,মোঃ সামসুল হক সানোয়ারের সাথে পরিচিত হন এবং এই দুই তরুণ তবলচীর সাথেই বেশী সঙ্গত করতেন। আরও কয়েকজন শিল্পীর সাথে পরিচয় হয়। এরা হলেন শ্রী শৈলেন কুমার মজুমদার, কেরু এন্ড কোম্পানির নিরাপত্তা বিভাগের আদিল উদ্দিন,শ্রী জগদিস চন্দ্র রাহা শিক্ষক-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মোঃ শাহ্ জালাল শিক্ষক-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও সংগীত অনুরাগী শিক্ষক আনিসুল ইসলাম, আশুতোষ সেনগুপ্ত এবং মোশাররফ হোসেন শিক্ষক কেরুজ হাই স্কুল এর সাথে ছিল সখ্যতা।

সদ্য প্রয়াত সন্দীপ রায় চৌধুরী কুনালকে তিনি সেতারে তালিম দেন, এছাড়াও রামনগরের মিরাজুল ইসলাম মিরাজ সংগীতের পাশাপাশি ওস্তাদজীর কাছে সেতার শিক্ষার তালিম নেওয়া শুরু করেন।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি রাজশাহী বেতারের অনুমতি সাপেক্ষে খুলনা বেতারের নিয়মিত সেতার বাদক হিসেবে প্রোগ্রাম করতে শুরু করেন। সেই সময় কেরু এণ্ড কোম্পানির শ্রমিক ইউনিয়নের নেত্রীবর্গ ,অফিসারবৃন্দ, ডাঃ এস আলম একত্রিত হয়ে ওস্তাদজিকে কেরুর পরিবহন বিভাগ থেকে হাসপাতালে চাকরি করার সুযোগ করে দেন।আনুমানিক ১৯৮১/৮২ সালের দিকে বিটিভির পিপি কাজী আবু জাফর সাহেবের সহযোগিতায় বিটিভিতে প্রোগ্রাম করার সুযোগ পান।সেখানে নিজ কণ্ঠে খেয়াল, ঠুমরি,রাগ প্রধান এবং সেতারে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। নিজের পরিবারের সকলেই সঙ্গীত অনুরাগী। ছোট ছেলে শহিদুল ইসলাম শহীদ সংগীতের সাথে জড়িত।
সেই সময় কেরুর শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অফিসার বৃন্দের সহযোগিতায় কেরুর খামার সহ বিভিন্ন স্থানে চাকরি করেন তিনি।এভাবে চলতে থাকে। এক সময় কেরুর শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সহযোগিতায় হাসপাতাল থেকে কেরুর জেনারেল অফিসে স্থানান্তরের সুযোগ হয় এবং সেখানে অনেক দিন চাকরি করার পর ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরির নিয়ম অনুযায়ী অবসর গ্রহণ করেন।

অবসর জীবন চলাকালীন সময় তিনি আর গান বাজনাতে ঠিক মতো মনোনিবেশ করতে পারতেন না। কোন কোন সময় খুলনা বেতারে প্রোগ্রাম করতে যেতেন আবার কোন কোন সময় বেতার থেকে ডাকলেও যেতে পারতেন না। অর্থাৎ গান বাজনার প্রতি কিছুটা অনিহা প্রকাশ করতেন। তার উপর শরীরও ঠিকমতো পারমিট করতো না। এমন একটা সময় আসলো সেতারটা বহন করার মতো শক্তি সামর্থ ছিল না।
২০০০ সালের পর থেকে সমবয়সী কিছু মানুষের সাথে সময় কাটানোর পাশাপাশি বাড়ির পাশের মসজিদে সময় কাটাতেন। শরীর সুস্থ থাকলে মেয়েদের বাড়িতে বেড়াতে যেতেন।২০০৭ সালে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত মেয়েদের বাড়ি ঢাকাতেই ছিলেন। রোজার মাস ঈদের আগে আগে দর্শনাতে ফিরবেন এমনই ছিল সিদ্ধান্ত। কিন্তু হঠাৎ তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২৯ সেপ্টেম্বর,১৬ রমজান দর্শনা তে ফেরার জন্য মন স্থির করেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেয়েরা তাকে তাঁর ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে দর্শনায় ফেরার ব্যবস্থা করে দেয়। সেদিন দুপুরের পরপর তিনি ঢাকা থেকে দর্শনার বাড়িতে পৌঁছে যান! কিছু সময় পর বিকালের দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে পরিচিতজনদের সাথে দেখা করে সন্ধ্যার পূর্বেই বাড়িতে ফিরে আসেন। সুস্থ মানুষ ইফতার করার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ির কাছেই কেরুর হাসপাতাল। সাথে সাথেই হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছে কর্তব্যরত নার্সের মাধ্যমে ডাক্তারকে ডাকা হয়। ডাক্তার সাহেবাও রোজা ছিলেন। ইফতারের পরপরই মাগরিবের নামাজ। ডাক্তার সাহেবাও নামাজ আদায় করেই হাসপাতালে চলে আসেন এবং রোগীর প্রেসার,পালস্ একাধিক বার পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা করার পর ডাক্তার সাহেব উপস্থিত নার্স ও অন্যান্যদের সামনে মত প্রকাশ করে বললেন, প্রেসার নীল ,পালস্ নীল অথচ রোগী সচেতন।
ওস্তাদজি অসুস্থ শুনে হাসপাতালে অনেকই দেখতে আসেন। ওস্তাদজি উপস্থিত সকলের সাথেই কথাবার্তা বলছেন কিন্তু ডাক্তার সাহেব বেশ চিন্তিত। শেষ রক্ষা হবে কিনা? এরই মাঝে তিনি নিজেই ওয়াস রুমে গেলেন এবং যথারীতি ফিরে এসে বেডে এসে শুয়ে পড়লেন! রাত ৮ – ৪০ মিনিটে উপস্থিত সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
এই সময় তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর!
রেখে গেলেন সহধর্মিণী,৩ মেয়ে-জামাই, ২ ছেলে নাতি নাতনি সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন,গুনগ্রাহী, গুণমুগ্ধ শ্রোতাবৃন্দ।আজ তাঁর ১৭ তম মৃত্যু বার্ষিকী। আজকের দিনে সবার কাছে এই গুনী মানুষটির জন্য পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রার্থনা তিনি যেন পরলোকে ভালো থাকেন।



লাইক করুন