নজরুলের আত্মজীবনীগুলাতে যত যত অর্থকস্টের বিজ্ঞাপন দেখা যায় সেইগুলা সত্য৷ তবে তার প্রাচুর্য ও বিলাসিতার গল্প আড়াল করে থাকেন জীবনীকারগণ। ফলে অনেকেই জানেন না একসময় কলকাতা শহরের সবচেয়ে দামি গাড়িগুলার মধ্যে দুইটা গাড়িই তার ছিল।
একটা ক্রিসলার, ডাউন পেমেন্ট দিয়ে কিনছিলেন। আরেকটা অস্টিন। ৩২ মডেলের অস্টিন গাড়িটাই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। এই গাড়ির ড্রাইভারের নাম ছিল চণ্ডী। এটাতে চড়ে দুই ছেলে কাজী সব্যসাচী ও অনিরুদ্ধ কাজী স্কুলে যেতেন।
প্রথম গাড়িটা আছে ঢাকার একজন সংগ্রাহকের কাছে। দ্বিতীয় ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে কবির নাতনী মিস্টি কাজী কবির প্রিয় গাড়িটিতে ড্রাইভিং সীটে বসে আছেন।
একেকটা গানের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম যত টাকা রয়্যালিটি পাইতেছিলেন তার কাছাকাছি মজুরি এখনকার বাংলা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে কেউ পায় না।
অথচ লোকে তারে অফিসিয়ালি দুখু মিয়া হিসেবে দেখতে ভালোবাসে। এদের জন্য নজরুল কবিতা লিখে গেছেন,
হে দারিদ্র
তুমি মোরে করেছ মহান।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিস্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।
নজরুলরে যত গরীব ভাবা হয় ততটা গরীব মানুষ তিনি না। নজরুল রচনাবলী বিক্রি করে কত প্রকাশক ফ্ল্যাট বাড়ি গাড়ি করতেছে তার হিসাব কার কাছে আছে? শুধুমাত্র পাঠকের চাপে আজও তারে গরীব অবস্থায় থাকা লাগতেছে।
কলমেঃ
ইয়াসির আরাফাত মিলন
সম্পাদক ও প্রকাশক
জাতীয় প্রতিদিনের আলোচিত কণ্ঠ
রামপুরা, বনশ্রী
ঢাকা -১২০৫